স্টাফ রিপোর্টার::
নিজের সন্তানকে বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সমাজকর্মী মো. এমদাদুল হক শাহজাহান। জনাকীর্ণ এলাকায় দিনের বেলায় একজন নাগরিকের ওপর হামলার এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জে। ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধনে নেমেছেন অভিভাবক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শহরে কিশোর গ্যাং ও বখাটেপনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্টে) সচেতন অভিভাবকবৃন্দ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সুনামগঞ্জ জেলা শাখা এবং স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সর্বস্তরের নাগরিক, অভিভাবক, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সিপিবি সভাপতি অ্যাডভোকেট এনাম আহমেদ, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাছান শাহিন, পৌর জামায়াতের আমির আব্দুস সাত্তার মো: মামুন, গণঅধিকার পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সওগাত উছমানী চৌধুরী তিমন, সাংবাদিক তছদ্দুক রেজা ইমন, মো. ফারুক আহমেদসহ অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন বাবা যখন নিজের সন্তানকে বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হন, তখন বিষয়টি শুধু একটি পরিবারের নয় এটি শহরের সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। দিনের বেলায় শহরের একটি জনাকীর্ণ এলাকায় এমন হামলার অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ শান্তিপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী শহর হিসেবে পরিচিত। সেখানে প্রকাশ্যে হামলা, অস্ত্রের ব্যবহার কিংবা কিশোরদের বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের একটি অংশের বেপরোয়া আচরণ ও বখাটেপনা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও তারা চিন্তিত বলে জানান। তাদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পথে নজরদারি বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সময় পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহলের আশ্রয় প্রশ্রয় রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের পাশাপাশি অপরাধে সহযোগিতা বা আশ্রয় প্রশ্রয়ের অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা জানান, হামলার ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে শ্রাবণ নামে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। তবে মামলার অন্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।একই সঙ্গে তদন্ত নিরপেক্ষ ও দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানানো হয়।
শুধু মানববন্ধন নয়, কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা। অভিভাবক, শিক্ষক, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। মানববন্ধন থেকে আগামী শনিবার শহীদ জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরিতে সুনামগঞ্জ শহরের অভিভাবকদের নিয়ে একটি অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকায় নিজের সন্তানকে বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা করতে গেলে মো. এমদাদুল হক শাহজাহানের ওপর একদল ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর মামলা হলেও অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নাগরিকরা।
এখন দাবি একটাই অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং শহরের কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ। কারণ একটি পরিবারের সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে যেন আর কোনো অভিভাবককে হাসপাতালে যেতে না হয় মানববন্ধন থেকে এমনই প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
